ভূমিকম্প তরঙ্গের প্রকারভেদ || Types of Seismic Waves

ভূমিকম্প তরঙ্গের প্রকারভেদ || Types of Seismic Waves

Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

বঙ্গভূমি ফেসবুক পেজটি লাইক করুন

ভূমিকম্প তরঙ্গের প্রকারভেদ

ভূমিকম্পের ফলে যেসব তরঙ্গের উৎপত্তি ঘটে তাদের ভূমিকম্প তরঙ্গ বলে। ১৭৫৫ সালে ভুকম্পবিদ ‘জন মিশেল’ ভুমিকম্পের তরঙ্গ আবিষ্কার করেন। তরঙ্গের প্রকৃতি অনুসারে ভূকম্প তরঙ্গকে প্রধান ২টি এবং ৪টি উপবিভাগে ভাগ করা যায়।

 Primary or P waves (on top) and secondary or S waves (on bottom) in motion
Primary or P waves (ওপরে) এবং secondary or S waves (নীচে)

১. দেহ তরঙ্গ(Body Wave)-

যে তরঙ্গ ভূকম্প কেন্দ্র থেকে ভূঅভ্যন্তর দিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাদের দেহ তরঙ্গ বলে। একে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

     (অ) প্রাথমিক তরঙ্গ বা P তরঙ্গ-

এই তরঙ্গ সর্বপ্রথম উপকেন্দ্রে এসে সিসমোগ্রাফ যন্ত্রে ধরা পড়ে বলে একে প্রাথমিক তরঙ্গ বলা হয়।

  • বৈশিষ্ট- ১. এই তরঙ্গ যেই দিকে ধাবিত হয় তার সমান্তরালে শিলাস্তর কম্পিত হয় বলে একে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। ২. পদার্থের সংকোচন ও প্রসারণ ঘটানোর মাধ্যমে প্রবাহিত হয় বলে একে সংকোচন তরঙ্গ বলে। ৩. এই তরঙ্গের প্রবাহের সাথে সাথে পদার্থের কণাগুলি এগোয় ও পিছোয়, তাই একে ‘পুশ-পুল তরঙ্গ’ বলে। ৪. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম। ৫. এর গতিবেগ সর্বাধিক। প্রায় সেকেন্ডে ৫-১৪ কিমি। ৬. সজোরে ধাক্কা দেয় বলে একে ধাক্কা তরঙ্গ বলে। ৭. এই তরঙ্গ পদার্থের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ৮. এটি সর্বাধিক শক্তিশালী কিন্তু ধ্বংস ক্ষমতা সবচেয়ে কম।

জেনে রাখা ভালো ১. P, S, L- তরঙ্গের আবিষ্কর্তা হলেন ‘আর. ডি. ওল্ডহ্যাম’। ২. P*-S*- তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন ‘কোনার্ড’। ৩. Pg-Sg-তরঙ্গের আবিষ্কর্তা হলেন-‘জেফ্রিস’। ৪. Pg-Sg ভূকম্প তরঙ্গের গতিবেগ সবচেয়ে কম। ৫. P-S-ভূকম্প তরঙ্গের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি।

(আ) গৌণ বা S তরঙ্গ-

পি তরঙ্গের পরে এই তরঙ্গ উপকেন্দ্রে পৌছায় বলে একে মাধ্যমিক বা গৌন তরঙ্গ বলে।

  • বৈশিষ্ট- ১. এই তরঙ্গ যেদিকে ধাবিত হয় মাধ্যমের বস্তুকণাগুলি তার সমকোণে বা লম্বদিকে কম্পিত হয়, তাই একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। ২. তরঙ্গ কঠিন পদার্থের পীড়ন ঘটায়, তাই একে পীড়ন তরঙ্গ বলে। ৩. এটি মাঝারি গতিবেগ কম্পন্ন হয়। ৩.৫ থেকে ৭.২ কিমি/সেকেন্ড। ৪. এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য পি তরঙ্গের থেকে বড়ো এবং এল তরঙ্গের চেয়ে ছোটো। ৫. এটি শুধুমাত্র কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। ৬. এটি মাঝারি শক্তিসম্পন্ন এবং ধ্বংশ ক্ষমতাও মাঝারি।
ভূমিকম্প তরঙ্গের শ্রেণীবিভাগ
ভূমিকম্প তরঙ্গের প্রকারভেদ

২. পৃষ্ঠ তরঙ্গ (Surface Wave) বা তরঙ্গ-

যে সকল ভূকম্পীয় তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠ বরাবর প্রসারীত হয়, সেই তরঙ্গকে পৃষ্ঠ তরঙ্গ বা এল তরঙ্গ বলে।

ছবিতে বিভিন্ন খনিজে/শিলাতে ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ দেখানো হয়েছে
ছবিতে বিভিন্ন খনিজে/শিলাতে ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ দেখানো হয়েছে
  • বৈশিষ্ট- ১. এই তরঙ্গ উপকেন্দ্র থেকে সৃষ্টি হয়। ২. তরঙ্গের পদার্থের কণা গুলি ওঠা নামা করতে করতে পাশের দিকে প্রবাহিত হয়। তাই একে পার্শ্ব তরঙ্গ ও বলে। ৩. সর্বাধিক ধীরগতি ও দীর্ঘস্থায়ী তরঙ্গ। ৪. শুধুমাত্র ভূত্বকের কঠিন পদার্থের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়। ৫. এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়, তাই এর দীর্ঘ তরঙ্গ বলে। ৬. এর গতিবেগ অন্যান্য তরঙ্গের থেকে কম। প্রায় ৩.৫ থেকে ৫ কিমি প্রতি সেকেন্ডে। ৭. একে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- (ক) র‍্যালি তরঙ্গ- ভূপৃষ্ঠ বরাবরা উলম্বভাবে ওঠানামা করে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ এটি P তরঙ্গের বৈশিষ্ট রয়েছে। ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ পদার্থবিদ ‘লর্ড র‍্যালি’ এর আবিষ্কর্তা। (খ) লাভ তরঙ্গ- ভূপৃষ্ঠ বরাবর অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়। যেটি S তরঙ্গের বৈশিষ্ট বহন করে।একে LQ(Lateral Querwellen) তরঙ্গ বলে। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ গণিতবিদ এ. ই. এইচ. লাভ এর আবিষ্কর্তা। ৮. এই তরঙ্গের শক্তি সবচেয়ে কম কিন্তু ধ্বংশ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন-

ভূমিকম্প সৃষ্টির কারন

পৃথিবী সৃষ্টিরকারন জানুন (লা প্লাসের মতবাদ)

 


বঙ্গভূমি ফেসবুক পেজটি লাইক করুন

Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

Leave a Reply